হাইকোর্টে গরিব কল্যাণ যোজনার কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন
আমার বাংলা কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ করোনার সময়কালে লকডাউন পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে নির্মিত একটি প্রকল্প সম্পর্কে কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। মাত্র ছয় রাজ্যের কয়েকটি জেলায় কেন দেশজুড়ে দরিদ্র মানুষের জন্য প্রকল্পটি কার্যকর করা হয়েছে তা নিয়ে হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে। লকডাউনে স্ব স্ব রাজ্যে আগত বেকার অভিবাসী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য দরিদ্র কল্যাণ কর্মসংস্থান অভিযান প্রকল্প তৈরি করেছে কেন্দ্র। ওই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনও নাম না পাঠানোর জন্য বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলি রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। মামলাটি হাইকোর্টেও রয়েছে। সেক্ষেত্রে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রথমে রাজ্যের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তবে গত সপ্তাহে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি হিরণময় ভট্টাচার্যের একটি ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করেছিল যে, কেন ছয়টি রাজ্যের ১১৬ জেলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। আদালতকে এ বিষয়ে কেন্দ্রের বিবৃতি লিখিতভাবে জানাতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের মৌখিক বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সমস্ত রাজ্য নাম পাঠিয়েছে তাদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই প্রকল্প। তবে আদালত কেন্দ্রের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। আদালতের মতে, পুরো দেশের জন্য প্রস্তুত প্রকল্পে কেন কেবল ৬ টি রাজ্য তাদের নাম জমা দিয়েছিল তাও জানা দরকার। তাই ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, পুরো প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারকে লিখিতভাবে আদালতে দেওয়া উচিত। এর আগে, রাজ্যগুলিকে লকডাউনে প্রবাসী শ্রমিকদের আনার জন্য ট্রেন ভাড়া করতে হয়েছিল। বিজেপি বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে যে, কেন্দ্র অনেক কথা বললেও অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য কিছুই করেনি।
গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযান প্রকল্পের বিষয়ে হাইকোর্টের মনোভাব সম্পর্কে মন্তব্য করে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেছিলেন, “বিজেপি সরকার এইভাবে নাম কেনার চেষ্টা করছে। তাই হাইকোর্ট কৈফিয়ত চেয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনা ৭৫ হাজার কোটি টাকা যা এখনও পাওয়া যায় নি। এর আগে আদালত এই মামলার শুনানিতে রাজ্যর আইনজীবীদের উপস্থিতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যার ফলে রাজ্যকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রকল্পের নাম না পাঠানোর জন্য। এ বিষয়ে পুরুলিয়া থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এই নতুন মামলায় ৩০ মে অবধি প্রায় দুই লাখ অভিবাসী কর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে ফিরে এসেছেন। মালদা জেলায় কেবল ২৯ হাজার ফেরত এসেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য যে প্রকল্পটি পরিচালনা করছে তাতে প্রকল্পের শর্তাবলী অনুযায়ী ৩০ মে এর মধ্যে ২৫হাজার শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে জেলায় জেলায় ফিরে আসলেই সেখানে কার্যকর করা হবে। এই প্রকল্পটি ১২৫ দিনের জন্য অব্যাহত থাকার কথা। মোস্তাক আলম ৩০ মে এর আগে ফিরে আসা ২৯ হাজার কর্মীর নাম, ঠিকানা এবং আধার নম্বর সহ একটি তালিকা তৈরি করে স্থানীয় মহকুমা শাসকের কাছে জমা দিয়েছিলেন। তবে কোনওভাবেই প্রকল্পটিতে নাম তোলার চেষ্টা করা হয়নি বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।

